স্বর্গের চাবি

স্বর্গের চাবি

রিঙ্কি সামন্ত

কনফুসিয়াস ছিলেন চীনা দার্শনিক, শিক্ষক এবং রাজনীতিবিদ যাঁর দৃষ্টিভঙ্গি শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক রীতিনীতি এবং সরকার পরিচালনার পথেও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।

তাঁর জ্ঞানের বিস্তার এমনভাবে চীন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল যে আমজনতা ভাবতে শুরু করে, যিনি এত জ্ঞানী তিনি কী আর স্বর্গে যাওয়ার রাস্তাটা জানবেন না। তখন সবাই মিলে তাঁকে একদিন ধরলো সেই রাস্তা বলে দেওয়ার জন্য।

কনফুসিয়াস খুব ভালো করেই জানতেন, কীরূপে গুজব নিষ্পত্তি করতে হয়। তিনি যদি শতমুখে বলতেন যে, তিনি স্বর্গলাভের কোনো উপায় আবিষ্কার করেননি তবুও লোকজন বিশ্বাস করত না। ফলে তিনি নিজের ঘরে স্বর্গপ্রত্যাশী জনগণ দ্বারা অবরুদ্ধ হয়ে কোনোরকম উত্তেজনা, অস্থিরতা অথবা বিরক্তি প্রকাশ করলেন না। তিনি কোনো কথা না বলে নীরবে-নিভৃতে আপন কর্ম করে যেতে থাকলেন।

সেইসময় তিনি একটি কাজ করছিলেন। চীন দেশের সমস্ত সুন্দর সুন্দর কবিতা… নিয়ে একটি সংকলন বার করছিলেন। যখন এই সংকলনটি শেষ হলো, তিনি তখন তাঁর ছেলেকে ডেকে বললেন,  ”  প্রিয় বৎস! আমি স্বর্গে যাওয়ার কোনো সহজ পথ জানি না এবং তা জানার চেষ্টাও করিনি। আমার হাতের এই সংকলনটি একটি কবিতার বই যাতে শত শত চৈনিক কবির বাহারি কবিতা সন্নিবেশিত হয়েছে। এটি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে আমি যা শিখেছি এবং আমার বাড়ির সামনে হাজার হাজার স্বর্গপ্রেমীর ভিড় ও আকুতি দেখার পর মনে হচ্ছে এ সংকলনটিই হতে পারে সহজে স্বর্গে যাওয়ার একটি অব্যর্থ মহৌষধ।প্রিয় পুত্র! তুমি এ সংকলনটি মনোযোগসহকারে পড় এবং সংকলনমতে মন-মস্তিষ্ক ও চরিত্রের উন্মেষ ঘটাও। আমি দিব্যি করে বলতে পারি যে, তুমি যদি সংকলনটি আমার পরামর্শমতো পড় এবং অনুসরণ কর তবে তোমার স্বর্গলাভের সম্ভাবনা থাকলেও থাকতে পারে কিন্তু তুমি যদি এটি না পড় অথবা এ ধরনের অন্য কোনো বই না পড় তবে কোনো দিনই স্বর্গে যেতে পারবে না ।”

জ্ঞান মানুষের মনকে সুন্দর করে তোলে। এছাড়া গান,চিত্রকলা,ভাস্কর্য্য…মনের স্থূলতা, আকরিক জিনিসগুলো অনেকাংশে মুছিয়ে ফেলতে সাহায্য করে।সমস্ত ভালো কিছু নিয়ে যখন মানুষ তার জীবন সাজিয়ে তোলে তখন সে প্রকৃত সুন্দর হয় এবং স্বর্গে যাওয়ার রাস্তা সে খুঁজে পায়।

করোনা ঝড়ে আবার শুরু হলো নব লকডাউন। সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা(Frontline Warriors) হিসেবে একজন নার্সের চিকিৎসা ব্যবস্থায়  অবদান প্রচুর। বিশেষ করে বর্তমান এই বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতিতে তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন আমজনতা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের কোভিড হাসপাতালে দিনরাত এক করে চলেছেন তাঁরা।

অদৃশ্য ব্যাধিকে রুখতে একবিংশ শতাব্দীর ‘ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল’ হয়ে উঠেছেন কর্মযোগী। স্বার্গলাভের সম্ভাবনা এদের মধ্যেই লুকিয়ে আছে।

আসুন না ,এদের সাথে আমরাও  আমাদের মতো করে লড়াইয়ের জন্য তৈরি হই। সঠিক নিয়মে করি নিজের কর্ম, নিজের সুরক্ষা ।আপনি নিজে সুরক্ষিত থাকার অর্থ দেশকে সুরক্ষা প্রদান করেছেন ,ভালো রাখছেন। ।

            “যে যেখানে লড়ে যায় আমাদেরই লড়া,

            জীবনের কথা বলা গানের মহড়া যেন

                 সব্বার জন্যে, সব্বার জন্যে।। “

administrator

Related Articles