আশা ভোঁসলেঃ হিন্দি ফিল্মি গানের মেহেবুবা

আশা ভোঁসলেঃ হিন্দি ফিল্মি গানের মেহেবুবা

বৈঠকখানা ডেস্কঃ হিন্দি ছবির গানে তখন লতা, নূরজাহান, গীতা দত্তদের দাপট। সব ছবিতে তাঁরা গাওয়ার পর যেসব গান থাকতো সেগুলো দেওয়া হত তাঁকে। সোজা কথায় ‘বি’ বা ‘সি’ গ্রেডের গানগুলোই পেতেন তিনি। অথচ কন্ঠমাধূর্য কারো চেয়ে কম নয়। পণ্ডিত যশরাজ তাঁকে বললেন বাণিজ্যিক ছবির গান ছেড়ে ক্লাসিক্যাল গাওয়া শুরু করুন। কিন্তু সেটা করলে যে তিন সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া যাবে না। গান গাওয়া তো সে কারণেই।   

কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলের ৮৮ তম জন্মদিন আজ। দশকের পর দশক ধরে এই কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পীর সুরে মাতোয়ারা হয়ে আছে গোটা দেশ। কেবল ভারত নয়, এই উপমহাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে গোটা বিশ্বেই জনপ্রিয় আশা ভোঁসলে। তাঁর সুর, তাঁর কণ্ঠ, তাঁর গাওয়া গানগুলি ভারতবর্ষের শ্রেষ্ঠ সম্পদগুলির অন্যতম।

১৯৩৩ সালে ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের সাঙ্গলিতে জন্মগ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। মাত্র ১০ বছর বয়সে ১৯৪২ সালে মারাঠি চলচ্চিত্র ‘কিতি হাসাল’-এর জন্য দিদি লতা মঙ্গেশকারের সঙ্গে প্রথম প্লে ব্যাক করেন আশা। ৯৫০টির বেশি সিনেমায় গান গেয়েছেন আশা। বাংলা, হিন্দি, মারাঠি, ওড়িয়া-সহ একাধিক আঞ্চলিক ভাষায় ১২ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন তিনি।

ক্যাবারে, রক, ডিসকো, গজল ও ভারতীয় ধ্রুপদীতে খ্যাতিমান তিনি। হিন্দি সিনেমার গানে তাকে ‘মেহবুবা-কন্যা’ বলা হয়। সবচেয়ে বেশি গান রেকর্ড করার জন্যে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে তার নাম আছে। পেয়েছেন দাদাসাহেব ফালকে ও পদ্মবিভূষণসহ অনেক মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার। নিছক পরিসংখ্যানে তাঁকে বাঁধা যায় না৷ আশা ভোঁসলে ভারতীয় সঙ্গীতের এক অবিস্মরণীয় নাম।

১০ বছর বয়সে গেয়েছিলেন প্রথম গান। তার ৯ বছর পর একটি ছবিতে গান। একে একে বিমল রায়ের  পরিনীতা, রাজ কাপুরের বুট পালিশ; রফির সঙ্গে ‘নানহে মুন্নে বাচ্চে’ গেয়ে কিছু শ্রোতার মন পেলেন। তবে দিলীপ কুমার-বৈজয়ন্তীমালার নয়া দৌড় ছবিতে ‘মাঙ্গকে সাথ তুমহারা’ গাওয়ার পর লোকে তাঁর নাম জানল। কিন্তু একটা সময় পর্যন্ত ক্যাবারে, বিশেষত হেলেনের নাচ মানেই তাঁর গান-এই ছিল পরিচয়।

এরপর ওপি নায়ারের সুরেই তাঁর জাত চেনা গেল। ‘নয়া দৌড়’-এ সাহির লুধিয়ানভির কথায় রফির সঙ্গে ‘মাঙকে সাথ তুমহারা’, ‘সাথী হাথ বাড়হানা’ আর ‘উড়ে যব যব জুলফে তেরি’– এই তিনটি গান গেয়ে প্রথম বড় সাফল্য পেয়েছিলেন। তারপর ওয়াক্ত, গুমরাহ, হামরাজ, আদমি অওর ইনসান, হাওড়া ব্রিজ, মেরে সনম, এক মুসাফির এক হাসিনা, তুমসা নেহি দেখা, কাশ্মির কি কলিতে তাঁর কন্ঠের জাদু বোঝা গেল।

শুরুর দিকে ভালো গানের জন্য হা-পিত্যেশ করতে হয়েছে তাঁকে। অথচ কত টাকা নেবেন তাই নিয়ে ভাবতে ভাবতে ‘উমরাও জান’ ছবিটা করবেন কিনা তা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছিল পরিচালক মুজাফ্ফর আলীর মনে। কম বাজেটের ছবি। অথচ ছবির গানগুলোর জন্য আশা ভোসলেকে তাঁর চাই-ই চাই। কিন্তু আশার চাহিদামতো টাকা দিতে পারবেন না বলে সরাসরি কিছু বলতেও পারছিলেন না। মেয়ে বর্শার সঙ্গে পরিচয় ছিল। আগু-পিছু না ভেবে ধরলেন তাঁকে। বর্ষা মা-কে শুধু বলেছিল, গানগুলি শুনে পছন্দ না হলে গেয়ো না। গান আর তার কথা শুনে আশাও না বলতে পারেন নি। আসলে এই গান গাওয়ার জন্যই সারা জীবন অপেক্ষা করেছিলেন আশা। কিন্তু তাতেও পরিচালকের সমস্যা মিটল না। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তাঁর পছন্দ ছিল রেখাকে। কিন্তু টাকার অঙ্ক শুনে রেখা আগ্রহ দেখাননি। এই কথা শুনে আশা রেখাকে ফোন করে বলেছিলেন, উমরাও জান ছবির কাহিনী এবং গানগুলি শুনো, এতে তোমায় অভিনয় করতে হবে। আশার কথায় রেখাও  রাজী হলেন। বাকিটা তো ইতিহাস।

administrator

Related Articles