Baithakkhana Admin

administrator

বসন্ত উৎসব

সৌমী সেন : ঋতুরাজ  বসন্ত । প্রকৃতি নিজের মনের মত করে এই সময়টাকে সাজিয়ে তোলে। চারিদিকে শিমুল পলাশ এর আনাগোনা…

প্রথমবার কলকাতা শহরে প্রদর্শিত হলো পরিচালক রাজাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের তথ্যচিত্র ‘‘লস্ট ফর ওয়ার্ডস’’। 

নিগমানন্দ ঠাকুর :-  ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবস পালন হয় নিজের ভাষাকে রক্ষা করার স্বার্থে ।অন‍্যদিকে ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার…

বাহারি অন্দরসাজ

সৌমী সেন : সারাদিনের ক্লান্তি শেষে নিজের ঘরে এসে নিজের মনের মত করে সময় কাটানো একটা আলাদা আনন্দের বিষয়। আর…

সলিল চৌধুরীর ও জনসংযোগের অজানা কথা

গতপরশু ছিল ভারতের অন্যতম সুরকার, সঙ্গীত সাধক সলিল চৌধুরীর জন্মদিন । তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন এই প্রজন্মের একজন জনপ্রিয় সুরকার দেবজ্যোতি মিশ্র । তাঁর কথায়, “সলিল চৌধুরীর জন্মদিনে যে সলিলদাকে আমি দেখেছি তাঁর কথা বলতে গেলে বলবো পৃথিবীর সেরা কম্পোজারদের মধ্যে উঁনি একজন ।গানের বাইরে মানুষ সলিলদা আরো ইন্টারেস্টিং ছিলেন । তিনি ছিলেন সর্বসাধারণের বন্ধু । মানুষের পাশে দাঁড়ানোর, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলার মানুষ ।মিছিলের অনেক ভিড়ের একজন মানুষ । জনসংযোগ কাকে বলে, কতোটা শিকড়ে গিয়ে,গভীরে গিয়ে মানুষের সাথে জনসংযোগ করা যায় তা সলিলদার কাছে দেখেছি । ঠিক যেন একটা সুতো যা তাঁর আঙুল থেকে আমার আঙুলে জড়িয়ে গেছে । প্রায় গত দু’বছর ধরে পৃথিবী জুড়ে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি আমরা দেখেছি, করোনার থাবা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কতটা ক্ষত ছেড়ে গেছে তার পরিমাপ করা কঠিন । এমন সময় এই যে শ্রমজীবী ক্যান্টিন হয়েছে, মানুষ মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আমিও এতে সামিল হয়েছি সবই সেই সুতোটা হাতে জড়িয়ে আছে বলেই । সলিলদাকে দেখেছি সব্জি বিক্রেতাদের সাথে ফলন কেমন হচ্ছে, চাষীদের খুটিনাটি জিনিসের খোঁজ রাখতেন । এই যে একদম শিকড়ের সঙ্গে যোগাযোগ তাই এরকম গান ভাবতে পাড়তেন, তৈরি করতেন । কাজের ক্ষেত্রেও বহু মানুষের যোগাযোগে মিউজিক বানাতেন । কোয়ার, মিউজিশিয়ানস সব মিলিয়ে গান তৈরি হতো যাতে কত মানুষ যুক্ত হচ্ছেন সেটা ছিল দেখার, শেখার মতো । আজও আমি যে কাজ করি সেখানে চেষ্টা করি কত বেশি মানুষ নিয়ে কাজটা করা যায় । আসলে এত বড় কম্পোজার হয়েও সেলিব্রিটি সুলভ আচরণ করেননি । সবার মধ্যে মিশে যেতে পাড়তেন । ওঁনার মুম্বাইয়ের বাড়ি ছিল মিউজিশিয়ানদের অবারিত দ্বার । কখন কোন মিউজিশিয়ান যে সলিলদার বাড়িতে চলে আসতেন উঁনি খেয়ালও করতেন না । সবার জন্য করতেন । আজ এমন কঠিন সময়ে ওঁর এই দিকগুলোর কথাই বেশি করে মনে পড়ছে । আজ আমারও জন্মদিন । জীবনে অনেক কিছুই শিখেছি । তার মধ্যে সলিলদা শিখিয়েছেন কি ভাবে সবার সাথে, একসাথে বাঁচা যায় । এই যে নিজেকে সেলিব্রিটি ভেবে অন্যদের থেকে দূরে থেকে বাঁচার চেয়ে সবার সাথে বাঁচার যে আনন্দ সেটা সলিলদার জীবন যাপনের থেকে পাওয়া । এই সলিল চৌধুরীও সঙ্গীতশিল্পী সলিল চৌধুরীর মতোই আমার জীবন যাপনে গুরুত্বপূর্ণ । ওঁনার ইচ্ছা ছিল সুরকার কি ভাবে তৈরি করা যেতে পারে সেই বিষয়ে একটা প্রতিষ্ঠান হোক । যেখানে মিউজিক নিয়ে, কম্পোজিশন নিয়ে যারা ভাবছেন তারা শিখতে পারবেন সেই বিষয়ে খুটিনাটি । যদিও সেই ভাবনা বাস্তবে রূপ পায়নি । কিন্তু কতো মিউজিশিয়ান তিনি যে তৈরি করে গেছেন, আজও তাঁর গান থেকে শিখছে তা ভাবলে অবাক হই । আমিও গানের পাঠশালা তৈরি করেছি ওই যে বলেছিলাম সুতোয় বাঁধা পড়ে রয়েছি ।”