মেঘ, রোদ ও বৃষ্টির খেলা

মেঘ, রোদ ও বৃষ্টির খেলা

বৈঠকখানা ডেস্কঃ মেঘের সঙ্গে সময় কাটাতে চাইলে মেঘালয়ের শিলং, চেরাপুঞ্জি ও ডাউকি ঘুরতে যাওয়াই ভাল। শিলং-চেরাপুঞ্জি মানে উঁচু পাহাড়, ঝরনা আর সবুজ প্রকৃতির অপরূপ মেলবন্ধন। সেখানে রোদ, বৃষ্টি ও মেঘের সঙ্গে মিশে যেতে পারেন অনায়াসে। আকাশের ঘন নীলের ফাঁকে উড়ে বেড়ায় সাদা মেঘের ভেলা। ইংরেজ শাসকেরা একে প্রাচ্যের স্কটল্যান্ড বলতেন।

যত দূর চোখ যায় পাহাড় আর পাহাড়। আর যেখানে আটকে আছে মেঘের পরে মেঘ আর শ্যামলী নিসর্গের অফুরন্ত ভান্ডার। শিলং ও চেরাপুঞ্জিতে বেড়ানোর সবচেয়ে ভালো বাহন ট্যাক্সি। শিলংয়ে সারা বছর মনোরম আবহাওয়া মেলে। গ্রীষ্মে হালকা উলের পোশাক ও শীতে ভারী গরম জামাকাপড়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে। বৃষ্টি এ অঞ্চলে যখন-তখন হতে পারে। সুতরাং শিলং ভ্রমণের জন্য ছাতা আর রেইন কোট ও রাবারের জুতা অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হবে। বেড়ানো শেষে কেনাকাটা করতে হলে শিলংয়ের পুলিশ বাজারের দোকানগুলো ভালো।

এবার বেড়িয়ে পড়া যাক বিভিন্ন স্পটে বা দর্শনীয় স্থানে।

মওলননোঙ্গ ভিলেজ

গ্রামটি এশিয়ার পরিচ্ছন্ন গ্রাম হিসেবে পুরস্কারপ্রাপ্ত। লিভিং রুট, ব্রিজ, জলপ্রপাত ও কিছু বিস্ময়কর হাঁটার রাস্তাসহ মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক আকর্ষণের জন্য জায়গাটি বিখ্যাত। জীবন্ত শেকড়ের তৈরি লিভিং রুট ব্রিজের ওপর দিয়ে যাওয়ার অনুভূতি যেকোনো মানুষের স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে স্মৃতির পাতায় লেখা থাকবে।

উমিয়া লেক

স্কটল্যান্ডের হ্রদের সঙ্গে এই লেকের তুলনা করা হয়। শিলং থেকে বেশ খানিকটা দূরে হলেও ছবির মতো সুন্দর ও প্রশান্ত জায়গায় বসে নির্বিঘ্নে কিছুটা সময় অতিবাহিত করার জন্য এই হ্রদ উপযুক্ত জায়গা।

এলিফেন্ট জলপ্রপাত

বহু বছর আগে এক প্রবল ভূমিকম্পে ধসে পড়ে একটি পাথর। আকৃতিতে পাথরটি দেখতে অনেকটা হাতির মতো। বিশাল এই পাথরের কাছেই জলপ্রপাতটি। আর পাথরের নামেই তার নাম। জলপ্রপাতটির তিনটি ধাপ রয়েছে, মাঝের ধাপটি সর্বাধিক আকর্ষণীয়। চাইলেই যেকোনো পর্যটক নিচে নেমে ঝরনাটি দেখতে পারবেন। কিন্তু তাঁকে অনেক ধাপ নামতে হবে। জল পড়ার শব্দ আর বাতাসে তার শীতল স্পর্শ মন মাতিয়ে দেবে।

শিলং ভিউপয়েন্ট বা পার্ক

শিলং গেলে এখানকার সর্বোচ্চ জায়গাগুলো পাড়ি দেওয়ার অভিজ্ঞতা সত্যিই রোমাঞ্চকর। এখানকার টিলা ও উপত্যকাগুলো বেশ মনোরম আর সর্বক্ষণ যে বাতাস বয়, তা কেবলই নির্মল বা বিশুদ্ধ। ইউরোপীয় শাসকেরা একে প্রাচ্যের স্কটল্যান্ড বলতেন।

গলফ লিঙ্ক ও অয়ার্ডস লেক

ঔপনিবেশিক আমলে নির্মিত গলফ কোর্সটি ঘুরে দেখার মতো একটি জায়গা। পাইনগাছে ঘেরা কোর্সটি যেন সবুজ গালিচা বিছিয়ে আপনার জন্য অপেক্ষা করে আছে। পাশেই রয়েছে একটি জলপ্রপাত, যা স্থানীয় লোকজনের যাতায়াতের পথেই পড়ে। এখান থেকেই হাঁটা দূরত্বে রাজহাঁসের সঙ্গে সময় কাটানো এবং বোটিংয়ের জন্য চমৎকার একটি জায়গা অয়ার্ডস লেক।

অল সেন্টস চার্চ

একশো বছরের বেশি পুরোনো ভবনটি অল সেন্টস ক্যাথেড্রাল নামে পরিচিত। শুধু খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরাই নন, পর্যটকেরাও এখানে উপস্থিত হন এর ইতিহাস ও স্থাপত্যের সাক্ষী হতে।

লেডি উদ্যান

ছোট পুকুরের সমন্বয়ে জাপানি শৈলীতে সাজানো উদ্যানটি যেন এক টুকরা স্বর্গ। উদ্যানের ভেতর চিড়িয়াখানাও রয়েছে। এ ছাড়া আছে একটি জাদুঘর, যেখানে পাইথনের চামড়া, চিতাবাঘ, হাতির মাথার খুলি ও বিরল প্রজাতির প্রাণীর ছবি এবং নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে।

থাকার জন্য সামর্থ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন মানের হোটেল। পাইথন সুইটস হোটেল, হোটেল নাইট ইন, হোটেল সেন্টার পয়েন্ট, চেরাপুঞ্জি হলিডে রিসোর্ট, হোটেল আলপাইন কন্টিনেন্টাল হল এবং শিলং ক্লাব গেস্টহাউসগুলো অধিক পরিচিত। শিলংয়ে ভালো হোটেলের ভাড়া দিনপ্রতি ১ হাজার ৫০০ থেকে ২০০০ রুপি। এর কম-বেশিও আছে।

administrator

Related Articles