সতেরো পর্ব

সতেরো পর্ব

সপ্তপর্ণা বসু

মাঝরাতে

রুপম  জোরে জোরে দরজাটা ধাককালো, আরিয়ানের ঘুম চোখে বুঝতে পারছিল না কি হচ্ছে। রুপম ডাকছিল –এই আরিয়ান,দরজা খোল, ওই ওঠ ওঠ

শিরোনাম ধরমরিয়ে বিছানায় উঠে বসলো, এত রাতে ডাকছে কেনো!

আরিয়ান তাড়াতাড়ি দরজা খুলতেই রুপম ঝড়ের বেগে বলে গেলো– অনুরাগ কাকুর হঠাৎ খুব বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, ওরা মি.তামাং কে জানিয়েছে, গাড়ির অ্যারেঞ্জমেন্ট করছে, ওনাকে সম্ভবত হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে, মৈনাক ওখানেই আছে, ও হয়ত যাবে, আমাদের কি করা উচিত বুঝতে পারছি না!

ও ঘর থেকে রুক্সার বেরিয়ে এসেছে ততক্ষণে, বলল– সেকি!

আরিয়ান বললো– দাঁড়া আমি পুলোভারটা চাপিয়ে আসছি

শিরোনাম বললো– আমি যেতে পারি

সৃতমা বললো – আগে ওখানে চল তো

সবাই মিলে ওরা অনুরাগদের কটেজের দিকে এগিয়ে গেলো।

অনুরাগ জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে, কোনো কথা বলতে পারছে না।

রুক্সর বললো- শোন, তোরা যে যে যাবি, কোথায় নিয়ে যাচ্ছিস, কি করছিস সব জানাস।আমরা অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা করবো।

গাড়িটা আসতে দশ মিনিট মতন সময় লাগলো।অনুরাগকে নিয়ে নয়না, কুর্চি, চিনার  সাথে মৈনাক আর আরিয়ান চলে গেলো। বাকিরা এসে সারারাত বারান্দায় বসে, কখনো একটু শুয়ে, ফোনের সিগন্যাল আসছে কিনা এই সব দেখতে দেখতে রাতটা কাটিয়ে দিলো। ভোর হতে শুরু করেছে, চারিদিকে পাখি ডাকছে কালকের মতন, এখনও কোনো খবর আসে নি, পুবদিকের আকাশ লাল হতে শুরু করেছে, কাঞ্চনজঙ্ঘার মাথায় সূর্যের আলো, ওদের কারুর সে দিকে মন নেই।

শিরোনাম ব্যাগ গোছাতে গোছাতে বললো– সবাই রেডি থাক, দরকার হলে আজই নেমে যাব। 

জয়ী ফোনটা নিয়ে বললো– সিগন্যাল এসেছে রে, দাঁড়া একটা ফোন করি।

সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে জয়ীর দিকে তাকিয়ে আছে। মৈনাকের ফোন আউট ওফ রিচ। জয়ী আরিয়ানকে ফোন করলো, ওদিকে রিং হচ্ছে।

**********

ফোন কল

আরিয়ান ফোন তুলে বলল- আমরা কলিংপং এরে হসপিটালে। ভর্তি হয়ে গেছেন, অক্সিজেন সবে চালু করেছে। তোদের অনেক বার ট্রাই  করেছি, পাচ্ছি না।সিগন্যাল যখন যখন আসবে ফোন করিস। 

জয়ী বললো- ডাক্তার কি বললো?

-ডাক্তার সকাল ন’টার আগে আসবেন না।এখন রেসিডেনসিয়াল ডক্টর যিনি আছেন দেখেছেন।

–কতটা সেরিয়াস?

–জানি না, তবে অক্সিজেন স্যাচুরেশন খুব কম শুনলাম।

–কি হলো জানাস

–ঠিক আছে, রাখলাম। 

রুক্সার বললো- চল চা খেয়ে আসি,ঘুম আর হবে না।

শিরোনাম চায়ের কাপের গরমে হাতটা রেখে বললো- কী ঝামেলায় পড়লাম!

জয়ী বললো– ঘুমটা হলো না ঠিক করে আবার মাথা ধরে যাবে।

রুপম বললো– হয় ওই মাথাটা ফেলে দে নইলে ওই মাথাটা নিয়ে আর বেড়াতে আসিস না

সৃতমা বললো- তোর গাঁজা খাওয়াটা কমা।

শিরোনাম বললো- উটকো ঝামেলা, সবটা তো ঘেঁটে গেলো। 

জয়ী বললো– let them come

রুপম বললো– চলে আসাটা কি ঠিক হবে, মানে ওদের এরকম একটা ক্রিটিক্যাল কন্ডিশন!

জয়ী বললো– আমাদের ভরসায় অফকোর্স ওনারা আসেননি।

শিরোনাম বললো– সেটা ঠিক, কিন্তু আফটার অল আমরা নিজেরাই এগিয়ে গেছি।

সৃতমা বললো- আমার মনে হয়, আজ আমরাও কলিংপং এর চলে যাই, ওখানেই  সবাই থাকি, কাল ওখান থেকেই মুর্তি  নেমে যাব।

রুপম বললো– হ্যাঁ, সেটা বেটার, যদি না কিছু এদিক ওদিক হয়।

জয়ী বললো- আমরা সবাই মিলে বেড়াতে এসেছিলাম, কেউ অসুবিধায় পড়েছে আমরা হেল্প করেছি কিন্তু তোরা মনে হয় একটু বেশিই ভাবছিস।

শিরোনাম বললো- বললাম তো ব্যাগগুলো গুছিয়ে রাখতে।

সবাই ব্যাগ গোছাতে শুরু করলো। জয়ী চুপ করে বারান্দায় এক কোণে বসে ছিল।

সৃতমা ডাকলো– জয়ী আয়।

administrator

Related Articles