পাহাড়ের নাম জয়চণ্ডী

পাহাড়ের নাম জয়চণ্ডী

বৈঠকখানা ডেস্কঃ বাঙালির ঘরকুনো কিম্বা ভাতঘুম প্রিয় এসব বদনাম দিয়ে কোনও লাভ নেই। কারণ, বাঙালির ভ্রমণ পিপাসার সঙ্গে অন্য কারও তুলনা হবে না। বাঙ্গালি খুঁজে খুঁজে যেমন নতুন নতুন জায়গা বের করে তেমনি সেখানে নিজে ঘুরে অন্যকে ঘোরার জন্য আহ্বান জানায় একমাত্র বাঙালি।

আজ আমরা যাব এমন একটি জায়গায় যে জায়গাটি বিখ্যাত হয়ে আছে দুটি কারণে।একটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং দ্বিতীয়টি হলো বিখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায়।

জায়গাটির নাম জয়চন্ডী পাহাড়, পুরুলিয়া জেলায়। হীরক রাজার দেশে ছবিটির সেই দৃশ্যটি মনে আছে, যেখানে উদয়ন পন্ডিতের সঙ্গে গুপী-বাঘার প্রথম দেখা। ওই দৃশ্যের শুটিং হয়েছিল এই জয়চন্ডী পাহাড়ে। জয়চন্ডী পাহাড়ে এলে অনুভব করা যায়, যেন হীরকের রাজত্বে এসে পড়েছি। যেন খুব কাছ থেকে গুপী-বাঘার অদ্ভুত কীর্তিকলাপ দেখব।

কীভাবে যেতে হবে

জয়চন্ডী পাহাড় যেতে হলে হাওড়া থেকে পূর্বা এক্সপ্রেসে ওঠা যায়। নিকটবর্তী স্টেশন জয়চন্ডী পাহাড় স্টেশন। সেখানে নেমে হোটেলে ব্যাগপত্র রেখে বেরিয়ে পড়ুন পাহাড় দেখতে। সেই পাহাড়ে উঠতে গেলে অনেকগুলি সিঁড়ি আছে। মোট ৪৯০টি সিঁড়ি ভেঙে একেবারে পাহাড়ের মাথায় ওঠা যায়। পাহাড়ে উঠতে উঠতে চোখে পড়বে একটি ওয়াচ টাওয়ার।ইচ্ছে হলে ওয়াচ টাওয়ারটি ঘুরেও দেখা যায়। একসময় এই ওয়াচ টাওয়ারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যদিও এখন আর ওয়াচ টাওয়ারটিতে দর্শনীয় সেরকম কিছুই অবশিষ্ট নেই। পুরোটাই কালের নিয়মে ভেঙে পড়ছে। তবুও অতীতের একটা আশ্চর্য স্পর্শ পাওয়া যায়।

ওয়াচ টাওয়ার দেখা শেষ হলে আবার শুরু করা যায় পাহাড়ে ওঠার সিঁড়ি ভাঙা। একের পর এক ধাপ পেরিয়ে পৌঁছে যাওয়া যায় জয়চন্ডী পাহাড়ের একদম উপরে। এখানে আছে মা চন্ডী মন্দির। শুম্ভ নিশুম্ভ, চন্ড মুন্ড সহ বিভিন্ন অসুর নিধন করেছিলেন মা চন্ডী। সে কারণেই এই পাহাড়টির নামও জয়চন্ডী পাহাড়। এই মন্দিরের পাশে বিশাল একটি গাছে প্রচুর ঢিল বাধা আছে। অসংখ্য মানুষ বিভিন্ন মনস্কামনা পূরণের জন্য এখানে ঢিল বেঁধে যান। শোনা যায় এই মন্দিরটি অত্যন্ত জাগ্রত। এখানে সকল মনস্কামনা পূরণ হয়। ইচ্ছে হলে মন্দিরে পুজো দেওয়া যায়।মন্দিরের বাইরে থরে থরে সাজানো রয়েছে পূজা সামগ্রী। মনের মতো করে যে কেউ মা চন্ডীকে পুজো দিতে পারে।

পরের দিন ভোরবেলা বেরিয়ে পড়া যায় পাহাড় ট্রেকিং-এর জন্য। দূরদূরান্ত থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পর্যটক এখানে আসেন ট্রেকিং-এর কারণে। মন ভাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এত চড়াই-উৎরাই অতিক্রম করার ফলে শরীরও ঝরঝরে হয়ে যায়। পাহাড়ের উপর থেকে গোটা পুরুলিয়া শহরটাকে দেখতে খুব সুন্দর লাগে। ভোরের বাতাসে ট্রেকিং করার পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া যায় পাহাড়ের মাথায়। পাহাড় থেকে নামার জন্য সেই একই পথ ধরতে হবে তার কোনও মানে নেই। জঙ্গলের ভিতর দিয়ে একটি শর্টকাট রাস্তা রয়েছে নিচে নামার। চাইলে সেই রাস্তাটি ধরে জঙ্গলের মাঝখান দিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় এর জন্য নীচে নামা যায়। নীচে নামার সময় ঘন জঙ্গল একটা অ্যাডভেঞ্চারাস ফিল অবশ্যই দেয়

এই পাহাড়ের নিরাভরণ সৌন্দর্য পর্যটককে বহু বছর ধরে আকর্ষণ করে এসেছে। আজ ও সমানভাবে আকর্ষণ করছে। ঘরের কাছে পুরুলিয়ায় এমন সুন্দর নিদর্শন একবার চোখে না দেখলে কি চলে? পরিবারের সাথে হোক অথবা বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে একবার জয়চন্ডী পাহাড়ের ট্রেকিং করে আসা যেতে পারে। দু-তিন দিনের ছুটি দেখে একবার পুরুলিয়ার জয়চন্ডী পাহাড় থেকেঘুরে এলে বেশ কয়েক মাসের অক্সিজেন মেলে। তার সঙ্গে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য,পাহাড় ট্রেকিং-এর অ্যাডভেঞ্চার এসব তো আছেই।

administrator

Related Articles