সতেরো পর্ব

সতেরো পর্ব

সপ্তপর্ণা বসু

আমন্ত্রণ

নয়না অসম্ভব অস্থির হয়ে কটেজ থেকে ছুটে বেরিয়ে এলো । সামনেই ওদের সাথে দেখা  হয়ে গেলো।

কুর্চি বললো, ‘তুমি যে বেরোবে না বললে?’

নয়না বললো, ‘কে গান গাইছিল রে?’

চিনার বললো, ‘সবাই’

–না একা একটা গলা শুনলাম!

অনুরাগ মৈনাকের কাঁধে হাত দিয়ে সস্নেহে বলল, ‘এই যে, ও’

মৈনাক সলজ্জ মুখে মাথাটা নিচু করে নিল।

নয়না বললো, ‘বেশ সুন্দর গলা তোমার’

–থ্যাংক ইউ আন্টি, আমি মৈনাক।

নয়না বলল, ‘সময় পেলে এসো একবার আমাদের কটেজে,তোমার গান শুনবো। মানে তোমরা সবাই এসো,সবার সাথে আলাপও হবে, গানও হবে’।

অনুরাগ বললো, ‘ঠিক সবাই এসো,কাল তো আছোই,কাল সন্ধ্যায় বেশ জমিয়ে আড্ডা হবে’।

**********

ইন্টারেস্ট

কুর্চি মুখ মুছতে মুছতে জানলার পাশে এসে দাঁড়াল, চিনারকে হাতের ইশারায় জানলার কাছে ডেকে বললো, ‘একবার নিচে তাকা’

চিনার মুখ বাড়িয়ে জানলা দিয়ে নিচটা দেখে চুপ করে গেলো, বললো, ‘ওয়াও দারুন লাগছে দেখতে!’

কুর্চি দূরে আঙুল দেখিয়ে বললো, ‘তিস্তার বাঁধ ওটা, ওই যে রে, আলো দিয়ে ঘিরে আছে, চৌকো মতন ওটা’

–যেটা আমরা কাল এখানে আসার সময় ক্রস করে এলাম

–হ্যাঁ

–তুই কি করে জানলি?

–মি. তামাং সন্ধ্যেবেলা বাবাকে দেখাচ্ছিলেন

–কি ক্লিন ওয়েদার রে, এত দূর থেকেও দেখা যাচ্ছে! তারপর একটু থেমে বললো,

–দিদি দেখ পাহাড়ের গায়ে গায়ে সব বাড়িতে কি সুন্দর আলো জ্বলছে,চারপাশটা দারুন লাগছে কিন্তু!

কুর্চি বললো, ‘পাহাড়ে এরকম  আলো জ্বলতে দেখলাই আমার নৈনিতালের কথা মনে পড়ে,লেকের পাশেই পাহাড়ের গায়ে গায়ে  আলো জ্বলে থাকতো, আমাদের হোটেল থেকে…’

চিনার দিদির কথা শেষ করতে না দিয়ে মাঝপথে থামিয়ে দিল, ‘অনেকবার শুনেছি।আমি হবার আগে তোদের বেড়ানোর গল্প, আমার কোনো ইন্টারেস্ট নেই’।

কুর্চি বোনের গেল টিপে দিয়ে বললো, ‘জেলাস’

–yes অফোর্স।

লেপ মুড়ি দিয়ে পাশ ফিরে শুয়ে পড়ে চিনার।

কুর্চি বোনের মুখ থেকে লেপটা সরিয়ে বললো, ‘কিসে ইন্টারেস্ট তোর?’

– কিছুতে না,যা।

কুর্চি লেপের ভেতর হাত ঢুকিয়ে চিনারের গরম পেটের ওপর রাখে, চিনার চিৎকার করে ওঠে- please plesse please দিদি, হেভি ঠান্ডা হাতটা সরা।

কুর্চি আরো বেশি করে হাত ঘসতে থাকে ওর গায়ে –এই পাকা  তোর শাহরুখ খানের খবর বল নইলে হাত সরাবো না।

–this is physical torture, তুই হাত সরা আমি বলছি

কুর্চি হাত সরিয়ে নেয়- শেষ শাহরুখও শেষ।

–এবার কি প্ল্যান

–কলেজ এ যাই, দেখি রণবীর কাপুর পাই কিনা, এই দিদি তোর অফিস ভালো দেখতে ছেলে আছে?

–আমি কি অফিস ছেলে দেখতে যাই নাকি

কুর্চি বিছানায় এসে শুয়ে লেপটা গায়ে টেনে বললো, ‘এই তো কত ছেলে, দ্যাখ কাউকে পছন্দ হয় কিনা’

–পরশু তো চলেই যাব, এর মধ্যে আর পছন্দ করবো কি করে

–24hrs time আছে কিন্ত, বাবা খুব ইমপ্রেসড

–not my types

–হুম, নে এবার ঘুমো,কাল সকালে 5 টা বাজলেই  ডাক পড়বে

চিনার বললো–  উফ,আবার কাঞ্চন।

**********

মর্নিং ওয়াকে

রুসারের হতে ক্যামেরা, মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছে।  চারিদিকে নানান পাখির ডাক, যেন অজানা সুরের কনসার্ট চলছে,  আর কত যে বাহারি ফুল। হঠাৎ একটা শীষের শব্দ ভেসে এলো। রুক্সার এদিক ওদিক তাকালো।আবার একটা শিস, ঠিক সেই একই রকম

শিরোনাম বললো– whistling thrush.মানুষের মত শিস দেয়।

–আরিব্বস। 

–দাঁড়া, আশেপাশেই আছে কোথাও, চুপ করে থাক আওয়াজ করিস না

ওরা দুজনে এদিক ওদিক তাকাতে তাকাতে হাঁটতে লাগলো। হঠাৎ একটা সরু লম্বা গাছের দিকে আঙুল তুলে শিরোনাম বললো– ওই দেখ, একটা লম্বা লেজের পাখি দেখতে পাচ্ছিস-

অনেকক্ষণ পর রুক্সারে নজরে পড়লো,একটা গাছের একেবারে মাথায় বসে আছে, কিছুটা গ্রে কিছুটা সাদা আর কমলা মেশা একটা অদ্ভুত রঙের পাখি, লেজটা বেশ লম্বা মতন।

রুক্সার জিজ্ঞেস করলো-  ওটাই শিস দিচ্ছিল?

–না

ওটা লং টেলেড shrik, এই রিজিওন এ খুব কমন, ওর আরেক নাম butcher bird।

রুক্সার বললো– এই মিষ্টি পাখিটা butchar!

–yes, named আফটার their food হ্যাবিট।

রুক্সার লেন্স এডজাস্ট করতে শুরু করলো।

উল্টো দিক থেকে সেই দুই বোন।

শিরোনাম বললো– মর্নিং ওয়াক?

কুর্চি বললো– ওই আর কি,  ঘুম ভেঙে গেল আজ একটু তাড়াতাড়ি,তোমরা?

–আমরাও

–অন্য সবাই?

– ওরা ঘুমোচ্ছে

রুক্সার বললো– এখানে অনেক পাখি দেখা যায় শুনেছি, ওকে তো জোর করে নিয়ে এসেছি,সব কটা কুঁড়ে।

রুক্সার ছবিটা তুলে চিনারকে দেখালো।

চিনার বললো– আরিব্বস! কি পাখি গো এটা?

রুক্সার বললো– কসাই পাখি

–মানে!

–butchar bird, shrik

–বাবা, তুমি কি উইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার?

রুক্সার হেসে ফেললো।

–আরে না না, আমি জাস্ট শখে ছবি তুলি, নামটা এইমাত্র শিরোনামের থেকে জানলাম

কুর্চি শিরোনাম কে বললো– তোমার কি birding hobby?

–না আমার বাবার, আমি সাথে থেকে ওই একটুআধটু

–by the way, তোমার নামটা বেশ সুন্দর

শিরোনাম বললো– থ্যাংক ইউ।তোমাদের নাম জানা হয় নি কাল…

ওরা চারজন হাঁটতে হাঁটতে  এগিয়ে গেলো  পাহাড়ি পথের বাঁকে।

administrator

Related Articles