সতেরো পর্ব

সতেরো পর্ব

সপ্তপর্ণা বসু

আলোচনা

জয়ী বললো- জানি না তোরা কে কি ভাবছিস, কিন্তু আমি কিছু বলতে চাই

রুক্সার বললো– বল

–দেখ, আমরা কাল ওখানে হোমস্টেতে পুরো পেমেন্ট করেছি আবার কাল রাত্রে কালিংপং এ এই গেস্টহাউসে থাকার জন্য পে করব, moreover আমরা কয়েকটা দিনের মাত্র ছুটি নিয়ে এসেছি, আজ আমাদের মূর্তি যাবার কথা, we have a limited budget, আমরা কেউ চাকরি করি না, যখন তখন যেখানে সেখানে থেকে যেতে পারি না…

রুক্সার ওকে সমর্থন করলো– জয়ীর কথাটা একদম ঠিক কিন্তু এমন একটা বাজে অবস্থা ঠিক যে কি করা উচিত বুঝতে পারছি না।

শিরোনাম বললো– দেখ আমাদের যতটুকু করার ছিল আমরা সেটা করেছি, এরপর আমাদের বিশেষ কিছু করার নেই, তাছাড়া অঙ্কিতদাও এসে গেছে।

সৃতমা বলল– তাছাড়া অঙ্কিতদা একজন doctor আর মনে হলো কুর্চিদির ভালই বন্ধু।

শিরোনাম যোগ করলো– এক্সাক্টলি,কাল রাতে কুর্চিদি ফোন করেছিল আর আজ সকালেই যখন চলে এসেছে।

রুক্সার বললো– তাহলে কি আজ কি আমরা মূর্তি মুভ করে যাবো?

মৈনাক বললো– আমি থাকবো, এটা আমার ব্যক্তিগত ডিসিশন-

জয়ী বলল– তুই কি প্রেমে পড়লি নাকি?

আরিয়ান বললো– জয়ী stop this।

রুপম বললো– আমিও থাকতে চাই।

আরিয়ান বললো– তাহলে ওরা থাকুক, আমরা বাকিরা আজ বেরিয়ে যাই।

মৈনাক বললো– কাকুকে আজ বা কাল বোধহয় শিলিগুরি নিয়ে যাবে, ওরা রওনা হতে গেলে আমরা মূর্তি নেমে যাবো।

রুপম বললো– হ্যাঁ, সেটাই বেটার হবে, আমি আর মৈনাক থেকে যাই।

**********

সিদ্ধান্ত

অঙ্কিত বললো- অর্চি আমি  ডক্টর মিত্রর সাথে কথা বলে দেখলাম কাকুকে অঞ্জায়োগ্রম করতেই হবে, সেক্ষেত্রে বেটার আমরা আজ বা  কালকেই ওনাকে যদি শিলিগুড়িতে শিফট করতে পারি।

–সেটা তুই ভালো বুঝবি, এই অবস্থায় নিয়ে যাওয়াটা কতোটা ঠিক হবে!

–অক্সিজেন স্যাচুরেশনটা একটু বেড়েছে, আজকের রাতটা গেলে 48 হাউর্স ক্রস করে যাবে, সেক্ষেত্রে আশা করি কন্ডিশন আরেকটু স্ট্যাবল হবে, একটা স্পেশাল অ্যাম্বুলেন্স এর ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি, ওখানে নিতে পারলে অনেকটা নিশ্চিন্ত,আমার চেনা জায়গা,ডাক্তার ও আমার চেনা,  আমাদের হেড, Doctor Mukherjee is a very good cardiologist।তুই আন্টি র সাথে একবার কথা বল।

মৈনাকএকটা ব্লাড রিপোর্ট নিয়ে এসে অঙ্কিতের হাতে দিল।

অঙ্কিত ওর পিঠ চাপরে বললো– you guys have done a very good job।

কুর্চি বললো– ওরা না থাকলে কি হতো আমি জাস্ট ভাবতে পারছি না।

রুপম বললো– এভাবে বলো না দিদি

অঙ্কিত বললো– তোরা ওয়েট কর, আমি আসছি।

ব্লাড রিপোর্টটা নিয়ে ভেতরে চলে গেলো।

**********

মুর্তি

মূর্তির হোটেলটা একদম তিস্তার ধারে।বারান্দায় দাঁড়ালেই নদীর কুলকুল শব্দ,তার ওপারে সবুজ জঙ্গল। রাতে নাকি হরিণেরা নদীতে জল খেতে আসে। ওরা বারান্দায় চুপ করে বসে আছে।সন্ধ্যে হয়ে এসেছে।আজ  সারাদিন মেঘ করে আছে, টিপ টিপ করে বৃষ্টি পড়েছে।দূরে কখনো পাহাড় দেখা যাচ্ছে, কখনো শুধু মেঘ।

নীরবতা ভঙ্গ করে রুক্সার বলল– এভাবে বেড়াতে ভালো লাগে!ওরা ওখানে রইলো….

শিরোনাম বললো– thats their choice

সৃতমা বললো– শুরুটা এত ভালো ছিল…

রুক্সার বললো– hope for the best, শেষটাও যেন ভালো হয়-

আরিয়ান পরিবেশ হালকা করার জন্য বলল- কিরে মিউজিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্ট দুটোই তো রয়ে গেলো,এমন সন্ধ্যায় গান হবে না!

শিরোনাম বললো– মিউজিক!শালা ওই গানই আমাদের মাড়িয়েছে ।

সৃতমা রুপমের গিটার নিয়ে বসলো।জয়ী আরিয়ানের পাশে গিয়ে বসে অন্য কেউ যাতে শুনতে না পায়  সেভাবে বললো– মৈনাকের ব্যাপারটা কি রে!সেদিন থেকেই রয়ে গেলো,আজও এলো না…

–তোর কি দরকার? ওকি তোর বয়ফ্রেন্ড নাকি?

নে গাঁজা ধরা, chill baby।

আরিয়ান ঘরে ঢুকে গেল।রুক্সার বললো– একটা পেগ বানা, কি ওয়েদারা মাইরি

রুক্সারও আরিয়ানের সাথে ঘরে চলে এলো।

রুরক্সার বলল– হোয়াট হাপেনড টু জয়ী ইয়ার!

আরিয়ান বললো– মৈনাকের ব্যাথা…

–সে তো বুঝতে পারছি।আমার কিন্তু মনে হয় আজ আমরা না এলেও পারতাম। কাল সবাই একসাথে আসতাম! এমন কি একটা এক্সট্রা পেলাম!

–এই সন্ধ্যাটা, নইলে ওখানে বসে টেনশন-

–এখন কি টেনশন কম, সবাই একসাথে থাকলে এই একটা মেন্টাল চাপ হচ্ছে সেটা হতো না।

–আরে জয়ী একবার বলে ফেলেছে তাই, মৈনাক থাকবে জানলে ও এসব বলতো না,থেকে যেত। আর সবাই রাজিও তো হয়ে গেলাম।

–সে মেয়ে তো আবার ওদিকে আবার ভিডিও কল করে বসে আছে লাইন পাচ্ছে না।

–নজরদারি করছে হয়ত-

–হতেও পারে।

সৃতমার গান ভেসে আসছে,বারান্দা এসে বসলো ওরা। মেঘলা আকাশে মেঘের দলের সাথে সৃতমার সেই গান ভেসে চললো, “আজি  গোধূলিলগনে এই বাদলগগনে তার চরণধ্বনি আমি হৃদয়ে গণি, সে আসিবে’ আমার মন বলে সারাবেলা…”

administrator

Related Articles