সতেরো পর্ব

সপ্তপর্ণা বসু

দুই বোন

কুর্চি আর চিনার কটেজের দোতলার ঘরে,ঘরের সাথে একটা ছোট্ট বারান্দা, অনেক দূর অবধি চোখ চলে যায়, দূরে দূরে পাহাড়ের গায়ে জেগে থাকে, বাড়িগুলোতে আলো জ্বলছে, চারিদিক নিঝুম, নীচে তাকালেই গাছেদের অবয়ব, উপরে আকাশে তারাদের জেগে থাকা চোখ, কত তারা যে আকাশে ঝলমল করছে সে দিকে তাকিয়ে অনেকক্ষন বারান্দায় দাঁড়িয়ে রইলো কুর্চি।একটা সিগারেট ধরালো।

সার্থকের একটা টিপিক্যাল কনজারভেটিভনেস আছে যেটা ওর অসহ্য লাগে আজকাল। এই সম্পর্কটা ছেড়ে বেরোতেই হবে।এই তারা ভরা আকাশের দিকে তাকিয়ে ওর মনে হচ্ছিল, ‘এই বিশালতার অনুভব আমার খুব দরকার ছিল, অফিস- এর ওই ঘরে আর আমার ডেইলি রুটিন আমার দম যেন বন্ধ করে দিচ্ছিল’। অদ্ভুত একটা ভালোলাগা ওকে ঘিরে ধরেছিল, প্রকৃতি, ওই মুহূর্তটা, পরিবার, বিশালতা সবটাই একটা একসুরে বাঁধা মনে হচ্ছিল।

বাইরে ঠান্ডা খুব, বেশিক্ষণ দাঁড়ালো না কুর্চি, এমন একটা হাওয়া দিচ্ছে, তাড়াতাড়ি সিগারেটটা শেষ করে ঘরে ঢুকে এলো।

আজ আর কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা হয় নি, কাল বাবা ঠিক সকালে ঘুম থেকে তুলে দেবে, অবশ্য এখানে শুয়ে পড়া ছাড়া বিশেষ কিছু করারও নেই। চিনার আগেই ঘরে ঢুকে গিয়েছিল। কুর্চি দেখলো ও বিছানায় শুয়ে লেপটা গায়ে টেনে নিয়েছে। দিদিকে দেখে চিনার বললো, ‘এখানে লোকেরা থাকে কি করে রে ভাই, এত শীতে!’

কুর্চি বললো, ‘ওই আগে জামা ছাড়, ব্রাশ কর তারপর শুবি।‘

–‘তুই কর, আমি সকালে একবার করেছি, তোর সব বাতিক।’

কুর্চি ব্রাশ বার করতে করতে বললো, ‘কি নোংরা রে বাবা তুই।’

ব্রাশ বার করতে গিয়ে ওর সিগারেটের প্যাকেটটা পড়ে গেলো চিনারের সেটা দেখেই উঠে বসলো, ‘এই দিদি তুই সিগারেট এনেছিস! চিনারের গলায় এক অদ্ভুত উত্তেজনা –আমায় একটা  দিবি?

–লজ্জা করে না বড় দিদির থেকে সিগারেট চাইছিস!

চিনার আপার হ্যান্ড-এ খেললো, ‘ওই তোর জন্য এখানে এসেছি, এই এদোপচা জায়গায়,  পুরোটা ভেস্তে দিতাম তখন বুঝতিস।‘

–বাবু যখন নিজে রোজগার করবে তখন খেও, বাবা মায়ের পয়সায় আমি কোনোদিন খাই নি।

–আমিও তো খাচ্ছি না, দিদির পয়সায় খাবো, দে না রে একটু।

চিনারের কথায় আকুতি মেশানো।

-thats বেটার।আগে খেয়েছিস?

চিনার লজ্জা লজ্জা মুখ করে বল্লো, ‘হ্যাঁ খেয়েছি, ফেয়ারওয়েলের দিন, অতনুদের বাড়িতে।

–শুধু ফেয়ার ওয়েলের দিন!

চিনার আবার একইরকম হেসে বললো, ‘তোর কি রে!আমার পার্সোনাল matter! আমি তোকে জিজ্ঞেস করেছি সার্থকদার সাথে তোর কি হয়েছে!’

–কিছুই হয় নি, বললাম তো।

চিনার বললো, ‘হ্যাজাস না তো। কিছুই হয় নি! হুঁ উ! আর উনি এতটাই এডামেন্ট যে সার্থকদার ফোন রিসিভ করার ভয়ে এই hopeless জায়গাটা তে আসতে রাজি হতে গেলেন!’

–কে বললো তোকে সেজন্য এসেছি।

–nobody,I know।

–ভুল জানিস। ফোন রিসিভ করতে না হলে ব্লক করে রাখা যায়।

–yes রাইট। তাহলে কেনো এলি রে!আমি তো তোর কথা ভেবেই রাজি হলাম নইলে এই নেট নেই টিভি নেই, কে আসতো!

–আমার ইচ্ছা করলো আসতে। ফ্যামিলি বন্ডিং। আমরা চারজন মিলে শুধু আমাদের জন্য সময় কাটাব তাই। নো আউট সোর্সিং।

–ধুত, তোর মন ভালো নেই, কিছু একটা হয়েছেই তাই এই সব সেন্টু দিচ্ছিস। ফ্যামিলি বন্ডিং না ছাই। দিল্লি থাকতে তো ফোনই ধরতিস না।

–তখন হোস্টেল লাইফ ছিল। তুই হোস্টেল না গেলে বুঝবি না। আলাদা মস্তি।

–ও, এখন যেন কম মস্তি! দিব্যি তো উইকএন্ড পার্টি, আড্ডা, সিনেমা

-–সেটা আছে but বন্ধুদের সেই মজাটা মিসিং। professional world এ এলে তফাৎটা বুঝবি। এখন আমি বাড়ি আসার জন্য বসে থাকি।

–ছাড় তো, আগে তো হোস্টেল লাইফ কাটাই তারপর বাড়ি আসার জন্য বসে থাকা, আমার অনেক দেরি।

চলবে কি?  

administrator

Related Articles