রবীন্দ্রনাথের জীবনে শ্রাবণ

রবীন্দ্রনাথের জীবনে শ্রাবণ

বৈঠকখানা ডেস্কঃ মৃত্যু ছাড়াও রবীন্দ্রনাথের জীবনে শ্রাবণ কিন্তু স্মরণীয় এসেছিল বহুবার। বলা যায়, অনেক সময় শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথের জীবনে অন্য এক মাধুর্যে ধরা দিয়েছে। ১৯০৫ সালের ৭ অগস্ট (শ্রাবণ মাস) কলকাতার টাউন হলের এক প্রতিবাদ সভায় ওই গান গাওয়া হয়েছিল। ওই গান যেভাবে বাংলার সমাজকে আলোড়িত করেছিল, তা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী ঘটনা।

১৮৮২ সালের শ্রাবণ মাসে রমেশচন্দ্র দত্তের কন্যার বিবাহসভায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বরি ঠাকুরের প্রথম দেখা হয়। দিনটিতে কে সবচেয়ে বেশি খুশি ছিলেন তা বলা মুশকিল। তবে বঙ্কিম রবীন্দ্রনাথের ‘সন্ধ্যাসংগীত’ কাব্যগ্রন্থের প্রশংসা করেন প্রাণ খুলে, তারপর নিজের গলা থেকে ফুলের মালা খুলে রবীন্দ্রনাথের গলায় পরিয়ে দেন।

১৮৯৬ সালে ৮ আগস্ট কবির পিতা দেবেন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথকে ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ দেন তাঁদের সম্পত্তির। এ-ও রবীন্দ্রনাথের জীবনে এক সুদূরপ্রভাবী ঘটনা। ১৯০০ সালে রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ ‘ক্ষণিকা’ প্রকাশিত হয় শ্রাবণেই। এই কাব্যগ্রন্থের কবিতায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন—‘…মরার পরে চাইনি ওরে অমর হতে/অমর হব আঁখির তব সুধার স্রোতে।’ আবার ‘ক্ষণিকা’র শেষ কবিতায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন—‘থাকব না ভাই থাকব না কেউ/থাকবে না ভাই কিছু।/সেই আনন্দে যাও রে চলে/কালের পিছু পিছু।’

রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ ‘ক্ষণিকা’ প্রকাশিত হয় শ্রাবণেই। এই কাব্যগ্রন্থে কবিতায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন— ‘…মরার পরে চাইনি ওরে অমর হতে / অমর হব আখির তব সুধার স্রোতে।’

১৩২৯ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথের ৯টি নতুন গান পরিবেশিত হয় শান্তিনিকেতনে অনুষ্ঠিত বর্ষামঙ্গলে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ‘ওই যে ঝড়ের মেঘের কোলে’, ‘আজ আকাশের মনের কথা ঝরো ঝরো বাজে’, ‘পুব সাগরের পার হতে কোন’, ‘একি গভীর বাণী এল ঘন মেঘের আড়াল ধরে’, ‘বৃষ্টি শেষের হাওয়া কিসের খোঁজে’ প্রভৃতি।

১৩৪৭-এর ২২ শ্রাবণ রবীন্দ্রনাথকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশেষ ভাবে সম্মানিত করা হয় শান্তিনিকেতনে। বিদেশ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা এসে কবিকে সম্মানিত করেন। এই বিশেষ দিনে রবীন্দ্রনাথের একটি নতুন গান গাওয়া হয়- ‘বিশ্ব বিদ্যা তীর্থ প্রাঙ্গণ কর মহোজ্জ্বল আজ হে’।

১৯২৯ সালের ১২ থেকে ২২ শ্রাবণের মধ্যে শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ রচনা করেন ‘তপতী’ নাটক।

রবীন্দ্রনাথের প্রিয় শিষ্য শৈলজারঞ্জন মজুমদারকে নিয়ে একটা পড়া গল্প শোনা যায়। ১০৩৯ সাল। শ্রাবণ আসন্ন। রবীন্দ্রনাথ তাঁর গান-পাগল ছাত্রটির কাছে দুষ্টুমি করে বলেছিলেন, ‘এ বারে তো বর্ষামঙ্গল হবে না। পুরনো গানে বর্ষামঙ্গল করবে না’। পরদিনই সকালে ছাত্রটিকে দিলেন নতুন গান ‘ওগো সাঁওতালি ছেলে’। পরদিন আরও একটি গান, ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’। রবিঠাকুর প্রিয় ছাত্রকে আরও একটি বর্ষার গান লিখে উপহার দিয়েছিলেন ‘সঘন গহন রাত্রি ঝরিছে শ্রাবণধারা’।

২২ শ্রাবণ দিনটি নিয়ে আরও বহু কথা আছে রবীন্দ্রনাথ বিষয়ক নানা বইপত্রে। কলকাতার জোড়সাঁকো ঠাকুরবাড়ী থেকে প্রকাশিত হয় মাসিক পত্রিকা ভারতী। এই পত্রিকার প্রথম সংখ্যা থেকেই রবীন্দ্রের লেখা শুরু করেন। সেকালের রীতি ছিল পত্রিকায় কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া সাধারণ লেখকদের নাম ছাপা হত না। রবীন্দ্রনাথের নামও ছাপা হয়নি।  

administrator

Related Articles