যে ঘড়িতে কখনো ১২টা বাজে না

যে ঘড়িতে কখনো ১২টা বাজে না

কোথা থেকে কখন কি শুরু হবে কিংবা ছাড়া হবে অথবা এসে পৌঁছাবে সবই সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। আর সেই সময় মাপার যন্ত্র হল ঘড়ি। দুনিয়ার সমস্ত ঘড়ির সময় ১২টার কাটা থেকে শুরু হয়ে আবার ১২টাতেই এসে শেষ হয়। এই দুটি ১২টার মধ্যে একটি দিনের বেলার আরেকটি রাতের। কিন্তু এই বিশ্বে এমন একটি ঘড়ি আছে যেটিতে কখনো ১২টাই বাজে না। এমন অদ্ভুত ঘড়ির দর্শন মেলে ছবির মতো সুন্দর দেশ সুইজারল্যান্ডের উত্তর পশ্চিমের সোলোথার্নশহরে।

পৃথিবীর সব ঘড়িতে যেখানে সময় এক থেকে বারো লেখা রয়েছে সেখানে এই ঘড়িতে এগারো। অর্থাৎ কখনোই বারোটা বাজে না ওই ঘড়িতে। উত্তর খুঁজতে ফিরে যেতে হয় হাজার বছর আগে যখন এই নগরীর গোড়াপত্তন হয়েছিল। একাদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে এই নগরীতে ইলভ নামে এক জার্মানির আগমন ঘটেছিল, যিনি এই নগরটি প্রতিষ্ঠা করতে বহু পরিশ্রম করেছিলেন। কিন্তু ইলভ নগর নির্মানের কাজ সম্পূর্ণ করতে পারেন নি।

ইলভ তার কাজে পুরোপুরি সফল না হলেও সোলোথার্নবাসী তাকে ভোলেনি। যাতে ইলভের প্রচেষ্টা স্মরণীয় হয়ে থাকে সেই কারণে সোলোথার্ন-এর নাগরিকরা ইলভ-এর স্মরণে তার নামের সঙ্গে মিল রেখে শহরে ইলেভেন নামে কয়েকটি স্থপতি গড়তে শুরু করে। ১২১৫ সালে যখন এই শহরে কাউন্সিলর নির্বাচন হয় তখন এগারো জনকে নির্বাচন করা হয়েছিল। ১৪৮১ সালে সোলোথার্ন সুইস কনফেডারেশনের এগারোতম প্রদেশ হিসেবে যুক্ত হয়। ওই সময় এগারো জন শহর রক্ষাকর্তা নিয়োগ করা হয়েছিল। এরপর পনেরো শতকের গোড়ার দিকে যখন শহরে সেইন্ট আরসু গির্জা নির্মাণ করা হয় তখন গির্জায় এগারোটি দরোজা, এগারোটি জানালা, এগারোটি রো, এগারোটি ঘণ্টা, এগারো রকমের পাথর ব্যবহার করা হয়েছিল।

মোট কথা এই শহরবাসীর এগারো সংখ্যাটির প্রতি রয়েছে দুর্বলতা, যা তারা হাজার বছর ধরে ব্যবহার করে আসছে খুব যত্ন সহকারে। এই শহরে আছে ১১টি জাদুঘর, ১১টি গির্জা, ১১১টি ঝরণাসহ আরও অনেক কিছু। তার থেকেও বড় কথা এই শহরে রয়েছে সেই ঘড়ি যে ঘড়িতে ১২টা বাজে না কোনও দিন কারণ ওই ঘড়িতে লেখা নেই ১২ সংখ্যাটি। 

administrator

Related Articles