উৎসবের রঙ

উৎসবের রঙ

দীপঙ্কর দাশগুপ্ত

‘‘মলিন দিনগুলি মলিনতর হচ্ছে…।’’ কে যেন বলেছিলেন কথাটা? অশোক মিত্র না? শীত আসবে, তার হাত ধরে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালও আসবে। তাই ফের এই কথাগুলো মনে পড়ে গেল। সত্যজিৎ রায়, আকিরা কুরোসাওয়া, ইঙ্গমার বার্গম্যানরা প্রয়াত। বিদায় নিয়েছেন ছবির জগৎ থেকে। বহুদিন নতুন ছবির খবর পাওয়া যায়নি জাঁ লুক গোদার-এর (90-এর ওপর বয়স) কাছ থেকে। ইদানীং যে মুখগুলি ঘুরেফিরে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালগুলিতে থাকেন, এবারও তাঁদের মধ্যে কয়েকজন নিশ্চয়ই থাকবেন। কিন্তু তাঁরা যেন আমাদের প্রিয়তম মানুষ নন।

কুরোসাওয়ার পুরনো ছবি, মাঝারি মানের জানুসি দিয়ে কি এখনও কলকাতার রুচিবৃদ্ধি সন্তুষ্ট করা যায়? তবে অনেক দিন পর বং জুন হো-র ‘প্যারাসাইট’ ছবিটি একঘেয়েমি অনেকটাই যে কাটিয়ে দিয়েছে, সেকথা বলতেই হবে। সম্বৎসর সীমান্ত-সঙ্কট নিয়ে জর্জরিত থাকা মেক্সিকোর তিন পরিচালকও নজর টেনে রাখতে পেরেছেন বেশ কয়েক বছর ধরে। গিয়েরমো ডেলটোরোর ‘দ্য শেপ অব ওয়াটার’, আলফানসো কোয়ারনের ‘গ্র্যাভিটি’ কিংবা ‘রোমা’ এবং আলহান্দ্রো গনজালেস ইনিয়াতুর ‘বার্ডম্যান অর দ্য আনএক্সেপটেড ভার্চু অব ইগনোরেন্স’ চমকে দেওয়ার মতো ছবি হয়েছিল। তাঁদের প্রতিও প্রত্যাশা রয়েছে। কিন্তু ফেস্টিভ্যালে কি তাঁদের সাম্প্রতিক কোনও ছবি থাকবে? নাকি ফের সেই মলিন গতানুগতিকতাই ঘুরেফিরে আসবে?

কৃষ্ণাঙ্গ পরিচালক ব্যারি জেনকিন্স, স্টিভ ম্যাককুইনরাও ছবি করছেন। একটু পুরনো হলেও ইরানের মজিদ মজিদির ‘চিলড্রেন অব হেভেন’ কিংবা আব্বাস কিওরোস্তামির ‘হোয়্যার ইজ দ্য ফ্রেন্ডস হোম’-এর মতো ছবিগুলি এখনও ঘুরেফিরে দেখতে ইচ্ছে করে। সারা বছরের জন্য রয়েছেন স্করসিসি, কিউব্রিক, স্পিলবার্গ, কোয়েন ব্রাদার্সরা। তবুও সংশয় কাটে না,‘কেন কি’ ইদানীং বেশির ভাগ ছবিই আর টানে না, বেশির ভাগ বইয়ের মতোই।

ক্যাথরিন বিগেলোর ‘হার্ট লকার’, ক্লোই ঝাও-এর ‘নোমাড ল্যান্ড’, ‘দ্য গ্র্যান্ড বুদাপেস্ট হোটেল’ এ-র পরিচালক ওয়েস অ্যান্ডারসনের সাম্প্রতিক ছবি ‘দ্য ফ্রেঞ্চ ডিসপ্যাচ’ সত্ত্বেও সংশয় থেকে যায়। ‘ভাল ছবি’ দেখতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত হারুকি মুরাকামির ‘কাফকা অন দ্য শোর’ কেনার মতো বেকুব হতে হবে না তো? যুগোপযুক্ত হওয়ার তাগিদে মিউজিয়ামের সামনের ফুটপাথ থেকে কিনে ফেলেছিলাম।

কথা হচ্ছিল রুচিশীল সিনেমা নিয়ে। কে জানে, হয়তো আমার রুচিবৃদ্ধিতেই মরচে পড়ে গিয়েছে। তাছাড়া নতুন কীই বা কলকাতার দর্শকের জন্য আসছে? কী বা হয়? ওই এক ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ছাড়া? 

administrator

Related Articles