ওয়েবে সফল চুরাশির ‘গ্রহণ’ কাহিনি

ওয়েবে সফল চুরাশির ‘গ্রহণ’ কাহিনি

কণ্যা চক্রবর্তী

১৯৮৪ সালের শিখ দাঙ্গা এবং তৎকালীন পরিস্থিতি নিয়ে ওয়েবে মুক্তি পেয়েছে ‘গ্রহণ’ । রঞ্জন চন্দেলের এই সিরিজ মুক্তির আগে থেকেই বারবার আলোচনায় উঠে এসেছিল। অতিরিক্ত স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে সিরিজ বানানোয় আপত্তি জানিয়েছিলেন শিখ সম্প্রদায়ের মানুষরা। সিরিজটি আসলে সত্য ব্যাসের উপন্যাস ‘চৌরাশি’ অবলম্বনে তৈরি। তবে ‘গ্রহণ’ মুক্তি পাওয়ার পর দেখা গেল দর্শকরা দিব্যি পছন্দ করেছেন গল্প। সিরিজ দেখে প্রশংসাও করছেন তারা।

সিরিজের গল্প এগিয়েছে আইপিএস অফিসার অমৃতা সিং-কে সঙ্গে নিয়ে। অমৃতা সিস্টেমের প্রতি বিতশ্রদ্ধ। চাকরি ছেড়ে দিতে চায় সে। এন আর আই পাত্র ঠিক করা আছে তার। অমৃতার বাবাও চান মেয়ে চাকরি ছেড়ে বিদেশে সেটল্ করুক। এরই মধ্যে ‘৮৪ সালে বোকারোর শিখ দাঙ্গার তদন্তের সিট গঠিত হয়। তদন্ত ভার আসে অমৃতার কাঁধে। তদন্ত করতে নেমে একের পর এক সত্য সামনে আসতে থাকে তার। প্রশাসনের তদন্ত গোটানোর তাড়াহুড়ো, না না মহল থেকে আসা চাপ এসবের মধ্যেই অমৃতার সামনে আসে এক সত্য। চুরাশির দাঙ্গার মূল অভিযুক্তের ছবি সামনে আসতেই চমকে যায় সে, মূল অভিযুক্ত আর যুবক বয়সের তার বাবা হুবহু এক দেখতে। যদিও ছবির ওই ব্যক্তির নাম ঋষি রঞ্জন। অন্য অফিসারদের কাছ থেকে সত্য লুকোনোর চেষ্টা করে অমৃতা। সে জানত তার মা মৃত, কিন্তু এক রাতে তার মা তার কাছে আসেন! সত্য মিথ্যে সব গুলিয়ে যেতে থাকে অমৃতার। দাঙ্গার সঙ্গে কি আদৌ তার বাবা যুক্ত? তার মা কি জীবিত? এসব নিয়েই ওয়েব সিরিজ ‘গ্রহণ’।

অতীত-বর্তমান মিলিয়ে কাহিনি এগিয়েছে। একবার বর্তমান তো একবার ‘৮৪-র সামাজিক প্রেক্ষাপট অদ্ভুত মিলমিশে কাহিনি সাজিয়েছেন পরিচালক।

আই পি এস অফিসারের চরিত্রে জো‌য়া হুসেনের অভিনয়, অভিব্যক্তি নজর কাড়ে, তার বাবার চরিত্রে পবন রাজ মালহোত্রা একেবারে যথাযথ। ডায়লগ থেকে শরীরী ভাষা সবেতেই সুন্দর পবন রাজ। সিরিজের ভিলেন সঞ্জয় সিং। টিকাম জোশি ওরফে কাহিনির সঞ্জয়কে নিয়েই অনেকটা গল্প এগিয়েছে। তবে ভিলেনকে আরও একটু শক্তিশালী দেখানোই যেত! পরিচালক সেটি করেননি। যদিও কম এবং বেশি দুই বয়সের টিকামের অভিনয়ই বলিষ্ঠ। অমৃতা বাবার যুবক বয়সের চরিত্রটিতে অভিনয় করেছেন অংশুমান। রাগ-অনুরাগ-মারমুখী মেজাজ সবেতেই ভাল লেগেছে তাকে।

সমস্ত অভিনেতাই নিজের একশ শতাংশ দিয়ে কাজ করেছেন যার ফলে ‘গ্রহণ’ – এর গুণগত মান বেড়েছে অনেকটাই।

তবে কাহিনির ‌শেষটুকু অতিনাটকীয়। বলিউড ছবির ধাঁচে ম্যাজিক্যাল এন্ডিং অনেক দর্শকেরই পছন্দ হয়নি। কাহিনির মধ্যেও অনেক কিছুই জোড়াতালি দিয়ে মেলানোর চেষ্টা আছে। গোটা সিরিজ দেখেও ঋষি রঞ্জন কী ভাবে অমৃতার বাবা হয়ে গেল সে প্রশ্নের উত্তর মেলে না। তবে মোটের ওপর ‘গ্রহণ’ দেখতে ভাল লাগে। বাবা-মেয়ের সম্পর্কের সমীকরণ ছাড়াও কাহিনির রোম্যান্টিক অংশটুকুর সঙ্গেও একাত্ম হতে পারে দর্শক।

বিশেষ করে অতীত- বর্তমানে নন- লিনিয়ার ফরম্যাটে গল্প বলে ‘৮৪-র প্রেক্ষাপটকে দারুণ সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন রঞ্জন। সে কালের বেশভূষা, মানুষের কথা বলার স্টাইল, বাড়ি-ঘর-অফিস-কাছারির অন্দরসজ্জা, কয়লার ইঞ্জিন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের একমাত্র সাথী সাইকেলের বহুল ব্যবহার, সবটা নিয়েই আলাদা করে প্রশংসার দাবি রাখে রঞ্জন চন্দেলের রিসার্চ ওয়ার্ক এবং অতি অবশ্যই তা যথাযথ ভাবে ফুটিয়ে তোলার ক্যারিশমাও।

administrator

Related Articles