তিনটে হলিউড টুকেও ফেল ‘ভুত পুলিশ’

তিনটে হলিউড টুকেও ফেল ‘ভুত পুলিশ’

রুদ্রনীল ঘোষঃ ঠিক ছিল আরও এক সপ্তাহ পরে মুক্তি পাবে সইফ আলি খান, অর্জুন কাপুর, য়ামি গৌতম ও জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ অভিনীত পবন কৃপালিনীর ‘ভূত পুলিশ’। কিন্তু হঠাৎ করেই গণেশ চতুর্থীতেই রিলিজ হয়ে গেল ছবিটি। সে হতেই পারে, কিন্তু তাতে লাভটা কি হল সেটা বোঝা গেল না। বরং মনে হল ছবিটি এক সপ্তাহ কিংবা এক বছর পরে মুক্তি পেলেও কোনও অসুবিধা ছিল না। শুধু এটুকু বললেই যথেষ্ট বলা হয় না, বলা দরকার এমন ছবি যদি তৈরি নাও হত তাতে বরং লাভ হত। 

বিভূতি আর চিরুঞ্জি দুই ভুত ধরা ওঝা ভাই—বিভূতি সইফ আলি খান এবং চিরঞ্জী অর্জুন কাপুর। বিভূতির জীবনের লক্ষ্য দুটি; এক নারী দ্বিতীয় টাকা। সে নিজেই বলে যে কোনও ধরনের ভূত! এরপরেই ভূত ধরার জন্য দুই ভাইয়ের ডাক পড়ে হিমাচল প্রদেশের এক ছবির মতো সুন্দর চা বাগানে।

পবন কৃপালানি চেষ্টা করেছিলেন হরর কমেডিকে যথাসম্ভব ভূতুড়ে করে তোলার। কিন্তু শেষ রক্ষ হয় না। পুরোটাই বড্ড ছেলেখেলা হয়ে দাঁড়ায়। জমে না কোনও মোচড়।‘এক্সরসিট’, ‘ইভিল ডেড’, ‘স্কুবিডু’ এই তিনটে ছবি থেকে টুকে বাঁধাধরা গতের বাইরে গিয়ে ছবি করার প্রচেষ্টা সফল হল না। ঠগ তান্ত্রিকদের ধাপ্পাবাজি এক্সপোজ করা যেমন গেল না অন্যদিকে মানুষের অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারকেও ঠিকঠাক সমালচনা করা হল না। শেষ পর্যন্ত সবটাই হাসির খোরাক নারী হলেই তার চলবে তবে লাগবে টাকা। অন্যদিকে ছোটভাইয়ে লক্ষ্য বাবার লেগেসি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। দুই বোন মায়া য়ামি গৌতম ও কানুর জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ-এর সঙ্গে আলাপ হতেই দুই তান্ত্রিক ভাই জানতে পারে দুই সুন্দরীর ফার্ম হাউজে রয়েছে হয়ে দাঁড়াল।

ছবির আরেকটা দিকে নিয়ে আমরা সব সময়েই আলোচনা করি,সেটা হল অভিনয়। যদিও সেটা ছবিরই অঙ্গ, সেক্ষেত্রেও বিভূতি, চিরুঞ্জি, মায়া, কানুরের ভূমিকায় কমিক টাইমিং পারফেক্ট করতে কিছু কিছু জায়গায় খুবই চেষ্টা করেও গতিরুদ্ধ হয়। হঠাত্‌ করেই যেন ফিউজ উড়ে যায়। বঙ্গ মায়ের অ্যাংলো ছেলের মতো অ্যাকসেন্টে গ্রাম্য ভাষায় কথা বললেই কি দর্শক হেসে কুটিকুটি হবে। তারকাদের অভিনয় দেখে মনে হয় তাঁরা যেন হলিডে কাটানোর ফাঁকে মাঝেমধ্যে এসে দায়সারা শট দিয়ে গেছেন। তবে একজন অভিনেত্রীর কথা বিশেষ করে বলতেই হয়, শুধুমাত্র যাঁর জন্য গোটা ছবিটা বসে দেখতে হয়েছে। তিনি জেমি লিভার। তাঁর কমিক টাইমিং এবং অভিনয় দক্ষতা সত্যিই তারিফ যোগ্য। 

‘ভূত পুলিশ’ ছবিটিকে কোনও ঘরানায় ফেলতে হলে একটি হরর কমেডি বলতে হয়। অথচ ছবিটা কোনও দিক দিয়ে ভয়েরও নয়,কমেডিও নয়। বরং ‘এক্সরসিট’, ‘ইভিল ডেড’, ‘স্কুবিডু’ এই তিনটে ছবির একটি জগাখিচুড়ি টুকলি। তবে ছবির সমালোচনায় নিরুৎসাহিত হয়ে চেষ্টা করুন গোটা ছবিটে বেসে দেখার। একটা অভিঙ্গতার সাক্ষী থাকবেন।

administrator

Related Articles