ঘোরাঘুরি ফুটিয়ারি

ঘোরাঘুরি ফুটিয়ারি

বৈঠকখানা ডেস্কঃ পুরুলিয়া শহর থেকে গাড়িতে ৪০-৪৫ মিনিটের রাস্তা ফুটিয়ারি। পথে পড়বে বেলাবহাল গ্রাম। মার্চ-এপ্রিল মাসে পলাশের লাল আগুনে মাতায়ারা হয়ে ওঠে চারপাশ। সবুজের বুক চিরে লাল মাটি, তাল,পলাশ, কুসুম,মহুয়াদের সদর্প অধিষ্ঠান। কলকাতা থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘন্টার পথ। পুরুলিয়া বলতে সবাই অযোধ্যা পাহাড়ের কথা বলে। কিন্তু এ এক অন্য পুরুলিয়া!

কলাবনী আর লধুড়কার মাঝে ফুটিয়ারি রূপকথার মতো। তিলাবনি-পাঞ্জোনিয়া- সিন্দুরপুর তিন দিকে। তার ঠিক নীচেই রয়েছে ফুটিয়ারি। তবে কলাবনি হল একটা গ্রামের নাম। ফুটিয়ারি নদীর উপর তৈরি হয়েছে ফুটিয়ারি ড্যাম। দৈর্ঘ্য আড়াই কিমি, প্রস্থ দেড় কিমি, গভীরতা ৮০-৯০ ফুট। পুরুলিয়ার অনেক বাঁধই ওভারফ্লো ড্যাম, সেচ বিভাগের। এটিও তেমনই। নীল জলে থরে থরে ফুটে রয়েছে লাল, গোলাপি শালুক। শালুকপাতার উপর পা ফেলে নাচ দেখায় জলময়ূর। অপূর্ব সেই ভঙ্গিমা! পানডুবি সাঁতার দিতে দিতে হঠাৎ মুখ বাড়ায়।চোখে পড়বে নানা রঙের প্রজাতি, পাখি। এক দারুণ আকর্ষণীয় জায়গা ফুটিয়ারি।

পৌষসংক্রান্তির দিনে ফুটিয়ারি বাঁধের পাশেই টুসু মেলা বসে। ফুটিয়ারির এই জলাশয়ে চৌডল বিসর্জন হয়। পুরুলিয়ার অন্য অনেক জায়গায় অবশ্য চৌডল বিসর্জন পরের দিনও হয়। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ ভাগ থেকে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় অবধি পলাশফুলের লাল রঙের বন্যায় মাতোয়ারা হয় পুরুলিয়া, তেমনই এই টুসু উৎসবকে কেন্দ্র করেও আকর্ষণীয় আচার, অনুষ্ঠান, মেলায় দারুণ ভাবে সেজে ওঠে। আদিবাসীদের নাচ, গানে আমোদিত হয় চারপাশ। যদিও শুধু এই দুটি নির্দিষ্ট সময়েই নয়, পুরুলিয়া ভ্রমণ হতে পারে সারা বছর জুড়ে। বছরের এক এক সময় এক এক রকম চিত্তাকর্ষক রূপ ধারণ করে সে। তখন ফুটিয়ারি ড্যাম জুড়ে পাখিদের মেলা বসে।ডিসেম্বর থেকে মার্চ অবধি অনেক পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে।

তিলাবনি, প্যাঞ্জোনিয়া আর সিন্দুরপুরের পথের শোভাও চমৎকার। তিন পাহাড়ের শোভা দেখতে দেখতে যাওয়াযায় দ্বারকেশ্বর নদীর উৎপত্তিস্থল দেখতে। সুন্দর ল্যান্ডস্কেপকে পাশে রেখে দুর্গাসিংডাঙায় পৌঁছানো যায়। প্রস্রবণের জলধারা সরু হয়ে বয়ে চলেছে ক্যানিয়ন বেয়ে।

এরপর পাকবিড়রা ভৈরবস্থান। কষ্টিপাথরের এক অদ্ভুতশৈলী। ফুটিয়ারি থেকে মাত্র ৩৫-৪০ কিমি দূরেই রয়েছে জৈনদের পীঠস্থান। ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মোট তিনটি মন্দির। নবম থেকে দশম খ্রীস্টাব্দের আদিনাথ, শীতলনাথদের কষ্টিপাথরের মূর্তি। সরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি সংরক্ষণশালাও আছে। পাকবিড়রা দেখে যাওয়া যেতে পারে কেশরগড়ের রাকাবের জঙ্গলে। যেখানে রয়েছে কেশগর রাজার প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ। এই রাকাবের জঙ্গলে কাশীপুরের রাজ পরিবারের সদস্যেরা আসতেন শিকার করতে।

ফুটিয়ারি থেকেই ঘুরে নেওয়া যায় পুরুলিয়া অজস্র অনাঘ্রাত বাঁধগুলো। যাদের দূরত্ব ফুটিয়ারি থেকে কম বেশি দুই থেকে আড়াই ঘন্টার মতো। এর মধ্যে মুরগুমা বাঁধ, নরোহরা বাঁধ, কুকি বাঁধ, পাদ্রি বাঁধও আছে।

কী ভাবে যাবেন- হাওড়া থেকে ট্রেনে আদ্রা বা পুরুলিয়ায় গিয়ে সেখান থেকে গাড়িতে ফুটিয়ারি। দূরত্ব ২৭-২৮ কিমি। পুরুলিয়া স্টেশনে নেমে সেখান থেকে ৩৫-৪০ মিনিট, পালসিট-বড়জোড়া-ঢালডাঙা মোড় থেকে ডানদিকে সোজা পুয়াবাগান মোড়। সেখান থেকে ডানদিকে হুড়া-লধুরকা হয়ে শালডিহা। শালডিহা থেকে ফুটিয়ারি মাত্র ৪ কিলোমিটার।

থাকার ব্যবস্থা- ফুটিয়ারি রিট্রিট-এ। যোগাযোগ : দিব্যেন্দু ঘোষ  (+৯১৯০৫১১৬৬৫৬৩)। খরচ: ডিলাক্স কটেজ – প্রতি দিন মাথাপিছু ১৬০০ টাকা (যদি দু’জন থাকেন)/১৪০০ টাকা (যদি তিন বা চার জন থাকেন)। টেন্ট – প্রতি দিন মাথাপিছু ১৪০০ টাকা (যদি দু’জন থাকেন)/১২০০ টাকা (যদি তিন জন থাকেন)। এই খরচ থাকা এবং খাওয়া-সহ।

ফুটিয়ারি থেকে অফবিট পুরুলিয়া ঘুরে দেখতে বোলেরো গাড়িতে খরচ হবে ২৫০০-২৮০০ টাকা।

administrator

Related Articles